
Voices That Shape Us
Poetry, stories, and truths from the soul

Poetry, stories, and truths from the soul
© 2025 Thaahor. All rights reserved.
POETRYহঠাৎ থেমে গেলে আর চলতে ইচ্ছে করেনা,
বলতে ইচ্ছে করেনা কোন কথা।
শব্দের মিছিল থামিয়ে দিয়ে ফের
দিগ্বিদিক শূণ্য, নিস্তব্ধ, অন্ধকার ।
হঠাৎ জমে গেলে আর দেখতে ইচ্ছে করেনা
ডাহুকের করুণ সুর খেই হারানো
পুরাণের কোন গভীর খাদে
তলিয়ে যেতে যেতে
মেঘের মতন ভাসতে ভাসতে
ধুপ করে ভেঙে গেলে খেলাঘর;
আর গড়তে ইচ্ছে করেনা।
ইচ্ছে করেনা অনেক কিছুই
মোমের মতন গলতে থাকা রাত,
ডিপ্রেশনের রোজ কড়া ডোজ,
নিরামিষ মলিন সুখী জীবন,
নিজেকে কিংবা ভুল সময়!
তবুও বাঁচতে হয় -
খানিকটা মায়ায় কিংবা
ভালো থাকার আসক্তিতে হঠাৎ
ভুলে গেলে আর মনে পড়ে না
ফেলে আসা পথ!
POETRYঅপেক্ষা, মরীচিকা ছেয়ে আসা জল,
দীর্ঘশ্বাসে উবে যাওয়া অনুভূতির দল।
ট্রাফিকের লাল বাতি থেকে আরো দূরে
গন্তব্যের ঠিকানা, ঘড়ির কাটা থেমে গেছে
সময়ের বিড়ম্বনায়,
অজানা কোন এক অপূর্ণতায়!
অপেক্ষা জমে থাকা প্রশ্নের স্তুপ
একে একে আওড়ে চলা সমীকরণে
উত্তর থেকে উত্তরণের পথ;
থমকে আছে ঘড়ির কাটা, উত্তর কিংবা উত্তরণ!
এই ভাবতে ভাবতে একটা গান মাইগ্রেন
একটা সুর সুইয়ের মতন ঢুকে
খুঁজতে থাকে যন্ত্রণা
গুনগুন বাতাসের তালে
হতে পারতো এর শেষ, বিলম্বিত
ঘড়ির কাটায় সবশেষে কাংখিত গন্তব্য!
আদতে, শেষ বলে কিছু নেই এখানে
নেই কোন গন্তব্য!
POETRYমৃত্যু এবং আমি,
পাশাপাশি হেঁটে চলেছি ।
মৌন প্রতিযোগীতা চলছে দু’জনেতে
সে এক পা এগোয়, আমি তিন পা;
সে তিন, আমি পাঁচ !
সে হেসে উঠে তাকিয়ে,
আমি চমকে চোখ ফিরাই !
মাঝপথে সে জিরোয়,
আমি চলতে থাকি !
ক্লান্তিতে শরীর বুজে এলে,
মা পরম আদরে কাছে টানে,
মৃত্যু দূর হতে হেসে চলে ।
কান্নাগুলোয় তখন হাসি মেখে-
মায়ের কোলে চোখ লুকাই ।
বাবা পিঠ চাপড়ায়,
সে লুকায়, আমার ভয় হয় ।
অধোমুখে নিঃশ্বাস ফেলি বাবার কাঁধে !
এক চিলতে জীবন খুঁজে ফিরি,
সে সামনে এসে বাঁধ সাধে !
রাস্তা খুঁজি পালাবার,
পিছু তাড়া করে ফের !
অতঃপর,
আমি হেঁটে যাই,
সে আসে সমান্তরালে ।
আমি এক পা বাঁড়াই,
সে তিন পা !
POETRYজ্বর এলে মাথার উপর একটা বলয় ঘুরে ভনভন শব্দে।
এক কিশোরীর রক্তজবার মতন টকটকে লাল চোখ জমে থাকে বলয় ঘিরে!
মাথার উপর দোদুল্যমান সরলদোলকের মতন টিকটক টিকটক শব্দে দোলে সময়; আমি তাকিয়ে রই!
মাথায় বাজছে টিকটক, টিকটক!
হঠাৎ দেখি, আমি দাঁড়িয়ে আছি কন্সট্রাকশন বিল্ডিং এর একদম ছাদে, কেউ এসে ধাক্কা দিল আমায়!
আমি তলিয়ে যাচ্ছি অতল গহবরে, টিকটক টিকটক!
চোখ মেলে তাকাতে তাকাতে আবার চোখ বুজে পড়ে রই বিছানার কোণায়!
জ্বর এলে চোখের কর্ণিয়া তীব্র চিৎকারে আগুন ঝড়ায় মাথার উপর ঘুরতে থাকা বলয়ে!
টিকটক টিকটক!
টিকটক টিকটক!
মাথায় দাঁড়িয়ে আছে শাহবাগের সুশীলতা, দাঁড়িয়ে আছে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের বঞ্চিত বেশ্যার নখের আঁচড়!
টিকটক টিকটক!
টিকটক টিকটক!
বলয়ের উপরে টুপটাপ শব্দে ঝড়ে যাচ্ছে বিদেশী মদের তীব্র হাহাকার!
টিকটক টিকটক!
টিকটক টিকটক!
রাত চলতে থাকে ব্ল্যাকহোলের শিরা- উপশিরার সন্ধিক্ষণে, অনন্তকাল ধরে!
টিকটক টিকটক!
টিকটক টিকটক!
মসজিদের মুয়াজ্জিন গেয়ে উঠে পবিত্র সুর, আমি তাকিয়ে থাকি জানালার কার্ণিশে!
জ্বর এলেই মাথার উপর ভনভন শব্দে একটা বলয় ঘুরে।
সরলদোলক সুর তোলে, টিকটক টিকটক!
POETRYক্যালেন্ডারের পাতায় শীত শেষ । শহরে রূক্ষতাকে কাটিয়ে মলিন তুলোয় রঙিন একটা ভাব এলে বলে! হয়তো এসেও গেছে অগোচরে। চোখের ভিতর এখনো কুয়াশা, বুকে শৈত্য প্রবাহের শির শির হাওয়া, পাঁজরের কাঁপুনি এটোসেটো সোয়েটারে ঢেকে হেঁটে যাচ্ছে নিঃসঙ্গ পথিক; অমাবস্যায় ঠিক দেখা যায়না, টের পাওয়া যায়না কাঁপুনির আর্তনাদ!
অহেতুক ভাবনা ফেলে ফের ভাবা যায় শহরে শীত নেই, এসেছে বসন্ত!
শহরে রঙ নেই তবুও তাকে কে যেন সাজিয়েছে লাল হলুদের আদলে, শহরে সুখ নেই অথচ চারিদিকে সবাই কেমন হাসছে, শহরে প্রাণ নেই অথচ নিজেকেই বড্ড প্রাণহীন লাগে আবার এই শহরে কেউ নেই কোথাও তবুও তাকে কেন এত আপন মনে হয়; অদ্ভুত! কি আশ্চর্য গোলকধাঁধা, সত্য মিথ্যার মায়াজাল!
এভাবে ভাবতে না চাইলে চোখ বন্ধ করে একটা গান শোনা যেতে পারে নইলে অপু’র গলায় রবীন্দ্রনাথ অথবা পুরোনো কোন স্মৃতিচারণ!
সেল থেকে বেরুবার নিয়ম নেই । কতদিন, ঠিক কতদিন বের হইনা মনে পড়েনা; কতদিন আকাশ দেখিনা, গান বাজে না, অপু রবীন্দ্র’ শোনায় না! মাথা ঝিম ঝিম করে , শকের ভোল্টেজ বাড়ছে ক্রমে ক্রমে। এখনও কানে বাজে শিকলের টুংটাং, চোখে কুয়াশা!
এদিকে শহরে শীত শেষ, নেমে এসেছে বসন্ত; রঙিন এক ঝলমলে বসন্ত!
POETRYএকটি ভাঙা চেয়ার,
একটি পিরামিডের মতন দাঁড়িয়ে থাকে।
রাস্তার ধারে মৃত গাছটার মতন।
যতবার সে পথের পানে তাকিয়ে,
দীর্ঘশ্বাস কিনতে চেয়েছে;
ততবার ঠিক ততবার তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে সময় !
তাকে ভুলে- এসেছে নতুন কেউ;
প্রাক্তন- সে কেবলই আবর্জনা!
একটি ভাঙা কাঁচ,
ভুলে গেছে তার বিচ্ছেদ,
ভুলে গেছে তার মৃত্যুর যন্ত্রণা।
স্বচ্ছ দেয়াল ঘষতে ঘষতে-
হারিয়ে গেছে ফেলে রাখা পুরোনো জিনিসের ধূলোতে।
সে ময়লা মুছে না কেউ।
প্রয়োজন নেই বলে কেউ একবার খুঁজেও দেখেনা !
একটি ভাঙা কুটির ,
যেখানে রোজ স্বপ্নের আলো ঝড়তো,
আশারা গাইতো নতুন দিনের গান;
সেখানে এখন শ্রাবণ নেমে আসে,
নেমে আসে সিন্ধুর ধীর নীরবতা !
কিংবা,
ভেসে আসে হিমালয়ের শীতল কোন-
রাজকন্যার নীল বিষাদের সুবাস !
তার অদূরে দাঁড়িয়ে থাকে তার অপ্রকাশিত
লাল মলাটের গল্প !
তারাও ঠিক ততটাই দীর্ঘশ্বাস কিনতে চায়,
যার জন্যে একটা ভাঙা চেয়ার,
একটি ভাঙা কাঁচ,
একটি ভাঙা কুটির-
নীরব চোখে অপেক্ষায় থাকে !
আদতে,
এখানে কিছুই স্থায়ী নয় !
সেই ভাঙা চেয়ার, ভাঙা কাঁচ, ভাঙা কুটির, বিষাদময়ী হিমালয় কন্যা !
কিংবা আমি !
POETRYএকটি নির্দিষ্ট বলয়ে যেন আটকে গেছি আমরা।
সীমাবদ্ধ কিছু শব্দের স্বাধীনতা স্বরূপ –
দীর্ঘায়িত হয়না কোন বাক্য;
বাড়ে না কোন অনুভূতির জীবনকাল !
তোতা পাখির বুলিতে নিয়মিত পড়ে যাই শেখানো কালিমা,
গোটা কয়েক শব্দের বেড়াজালে আটকে থাকে জীবন !
প্রতিটি নতুন সকাল যেন মলিন,
পুরনো বুকশেলফটার মতন,
অযত্নে অবহেলায় তারা তিক্ত হয়,
তিক্ততাকে বুকে নিয়েই ঘুমাতে যায় ।
ফের সেই এক নিয়ম; একইভাবে তারা ঘুমায় রোজ !
এপাশটায়,
আমরা যেন এক একটা প্রাণহীন পাপেট !
তার ছড়ানো রঙের কিছুটা মেখে রঙিন হয় চারপাশ,
স্বপ্ন নেমে আসে বলয়জুরে !
তা আর দেখা হয় না;
স্বপ্ন হয়েই হারিয়ে যায় বলয়ে !
আমরা খুঁজি, খুঁজতে গিয়ে পথ হারাই !
বারংবার !
POETRYমানুষ বাঁচে
মানুষ মরে
মানুষে।
মানুষ বাঁচায়
মানুষ মারে
নিমিষে।
এখানেও কাটাতার, প্রশ্নবিদ্ধ দ্বিধায় বিভক্ত ক্রোমোজম অপেক্ষায় থাকে নতুন একসময়ের,নতুন এক ধারার। নতুন দিনের সূর্য উঠবে কবে?
মানুষ ঈশ্বর
কিংবা অসূর
মাকালফল!
মানুষ অজ্ঞ
কিংবা বিজ্ঞ
বেসামাল!
তারপর লোভাতুর চোখ টলে টলে ঢলে পরে পানশালায়, সত্তর হুর অথবা অবাধ সুখের দরজা খুঁজে বেড়ায় মসজিদ, মন্দির, গির্জায়!
মানুষ অন্ধ
মানুষ বোবা
কালা!
মানুষ মাটির
মানুষ মাংসের
পিত্তলা!
এখানেও নেই কোন নির্দিষ্ট সমাধান। দ্বিধান্বিত কতগুলো ছায়া জটের মতন ছুটে চলে এদিক ওদিক; কেউ ভাবে মানুষ,কেউ অসূর আর কেউ মাতাল চোখে তাকিয়ে দেখে দাবি করে ঈশ্বর!বিবাদে বিভেদে ভাগ করে নিজেদের, কেটেকুটে করে জয়োল্লাস!
POETRYজুম্মার বারান্দায় কতগুলা নেহাত শিশু খেলে, দুষ্টামি করে
গরমে পাঙ্খা আর এসি চলে
শীতের বেলায় দরজা-জানলা খোলে
বাতাসে ভাসতে থাকে রাজনীতি-অর্থনীতি কখনও কখনও সংস্কৃতিও
খোদানীতির ঘরে এইসব শুনতে শুনতে
শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ফেসবুকে করে স্ক্রল
এদিক ওদিক চায়া আস্তে কইরা মারে লাইক
হঠাত বাতাসে ভাসে "কি, বোঝে আসে?"
মোবাইল খান ঢুইকা যায় পকেটে
বোঝে না আসলেও ফেরার পথে বৌয়ের লেইখা দেয়া লিস্ট
সুড়ুত কইরা কিনা নিয়া বাসায় ঢোকে
বোঝে না আসলেও আবার পরের সপ্তাহে জুম্মাতে যায় মধ্যবিত্ত
ওহ, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত
বোঝে না আসলেও, সে নামাজটা পড়ে
বোঝে না আসলেও, খুতবার সময়টা মোবাইলেই থাকে
বোঝে না আসলেও, নোরা ফাতেহির রিলে চোখ আটকায় যায়
বোঝে না আসলেও, হুজুরে যা যা কয় বিশ্বাস কইরা যায়
বড়ভাইয়ের কথাগুলায় কি জানি আসে, সত্যি সত্যি লাগে
বোঝে না আসলেও, হুজুরে যেহেতু কইসের ঠ্যালায় মাইনা নিবার পারে না
বোঝে না আসলেও, চোখের সামনে যখন একদল মানুষ আরেকটা মানুষরে পোড়ায় মারে
তখন আবার মোবাইলটা হাতে উইঠা আসে
এইবার অবশ্য ফেসবুক স্ক্রল করে না,
ফেসবুকে ঢুইকা লাইভ বোতাম চাপে
অথচ জুম্মার বারান্দায় এখনও একদল নেহাত শিশু নিশ্চিন্তে খেলতাসে, দুষ্টামি করতাসে
POETRYফজরের আযানের আগে দিয়া
ঘরের ভিতরে যখন থাকি
দুনিয়া জুইড়া কেমন একটা শো শো শব্দ হয়
লাগে জানি সবকিছু অদ্ভুতভাবে ভাইঙ্গা যাইতাছে
নাকি জোড়া লাগতাছে
কেমন একটা খা খা দেশ
তার চাইতে বেশি খা খা তার রাজনীতি
আর উল্লম্ব যতিচিহ্নের মতো উদাম সব কিছু
পাশে বিলকুল নিষ্পাপ খাড়ায়া থাকে এক ফালি কমলার কোয়া
জাতীয়তা নামে
আমার হুইস্কির গ্লাসে টোকা মারে ধর্ম-রাজনীতির আইস
মুহূর্তে তোলপাড় হয়া যায় ক্রেমলিন থেইকা হোয়াইট হাউস
আমি নিরাভরন হয়া যাই দামাস্কাস থেইকা জেরুজালেম পর্যন্ত
ক্রমাগত শ্বাস নিতে থাকে দামেস্কের হুজুরি
বাগদাদের দাম উঠে নিউইয়র্কের স্টক এক্সচেঞ্জে
উপর্যুপরি ব্যালিস্টিক মিসাইল তাক করা থাকে সৌর-গণতন্ত্রের সর্বাঙ্গে
সেই তাক করা মিসাইল এর ঠিক নিচে রাস্তায় পইড়া থাকা ভাত খায় একদল মানুষ নামের নেড়ি কুকুর
তোমাদের এসপ্রেসো যখন ঠান্ডা হয়ে আসতে থাকে তখন অদ্ভুত একটা গোলাপি আকাশে পিংক মুন উঠে জাতিসংঘের সাজানো সাম্যের গানে
আর সেভেন সিস্টার্স থেইকা আওয়াজ উঠে কোন এক অলিখিত যুদ্ধের
এই সব কিছু ঘটতে ঘটতেই এক সময় আমরা মানুষ থেইকা খুব অন্য কিছু না হইলেও নিদেন পক্ষে মানুষ হইয়া উঠতে পারি না
অথচ এই চেষ্টাটাই কতটা ব্যাকুল আর আকুল আছিলো
শুধু দরকার আছিলো একটা এসওএস পাঠানোর
যার ভেতর লেখা থাকার কথা আছিলো
আমরা যুদ্ধ না শান্তি চাই
আমরা মানুষ না মানুষ চাই
আমরা পৃথিবী না পৃথিবী চাই
আর কিছু না হোক আমরা শুধু আমাদের কথাটুকু উদাম বলতে চাই
STORYআসমান রংয়া শাড়িখান পুরানো জিনিসপত্রের আলমারিতে পাইছিলাম। দাদিজানের শাড়ি হওয়ার কথা। আম্মারে না কইয়াই ঘরে আইনা রাখলাম শাড়িখান। রাইতে একবার তেনারে বলতে চাইয়াও বললাম না। কিছু কইয়া লাভ আছে তারে! তবুও ইচ্ছা করে কই। গল্প করি। অনেক অনেক গল্প। কি আর করুম! আমারে তো আর সইহ্য হয়না তার! কারেই বা সইহ্য করতে পারে! বুকের মইধ্যে নিঃশ্বাস জইমা ভারী হয় আমার। তাড়াইতে পারিনা।
ম্যাঘলা আকাশ দেইখা রাইতটা পার করলাম। ভোরের আলো ফোটার আগেই গিয়া পা ভিজাইলাম পুকুরে। কেমন এক অস্থিরতা! এই বাড়ির মানুষগুলা বুঝবো কোনোদিন? কে জানে! এই নিয়া ভাবলাম না খুব বেশি আর। ফটফটাইয়া নাইমা গেলাম পানিতে। একের পর এক ডুব দিলাম। তারপর দৌড়াইয়া পুরান ঘরে ঢুকলাম। ভেজা গায়েই বইসা রইলাম অনেকক্ষণ। কান্দন আহে আমার। দম বন্ধ লাগে। কি দোষ করছিলাম আমি! এমন একটা মানুষই কেন!
দূরে কোনো এক অচিন পাখি ডাকতাছে গলা ছাইড়া। কষ্ট নাকি ওর খুব, আমার মতন! আসমান রংয়া শাড়িখান কারো অনুমতি ছাড়াই গায়ে জরাইলাম। কি করবো! ডরাইয়া কাম নাই কাউরে। ভিজা চুল দুই হাতে নাড়াইতে নাড়াইতে ঢুকলাম ঘরে। সে তখনও ঘুমের মইধ্যে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। সাজনের জিনিসপত্তর রাখা বাক্সটা বাইর করলাম বহুদিন পর। আমার বড়ই সাজতে মন চায়। চোখে গাঢ় কইরা কাজল আকুঁম, ঠোঁটে চকচইকা রং মাখুম, শক্তপোক্ত খোঁপা কইরা একগাদা বেলীফুল গুজুম চুলে। আর সে! মুচকি হাইসা কপালের মাজখানে একখান টিপ বসাইয়া দিবে। লজ্জায় লাল হইয়া তার বুকের মইধ্যে মুখ লুকামু তহন।
স্বপ্ন! আহারে স্বপ্ন!
ভাবতে ভাবতেই বেখেয়ালে বাক্সটা পইড়া গেলো হাত থিকা। ভয়ে দুই পা পিছাইলাম। মানুষটার ঘুম ভাঙ্গলো বুঝি! বরাবর চাইয়া থাকা আয়নাডার দিকে চোখ আটকাইলো। আসমান রংয়া শাড়ি জরাইন্ন্যা এলোকেশী অষ্টাদশীর চোখে প্রেম নাই, স্বপ্ন নাই। খালি, অস্থিরতা। কেমন ব্যাখ্যাহীন গাঢ় অস্থিরতা!
মানুষটা হরবরাইয়া উইঠা বসলো। আমি পিছাইলাম আরো কিছুটা। সে, একবার… দুইবার এমনে বহুবার পলক ফেইলা তাকাইলো আমার দিকে। নতুন চাহুনী তার। রাগ নাই, ক্ষোভ নাই। কেমন জানি! আমি ভয় পাইলাম না। আজকে আর তারে ভয়ংকর লাগতাছে না কেন জানি। তাকাইয়াই থাকলাম। সে হাত নাড়াইলো। এমন ভঙ্গি! যেনো দূর থিকাই ছুঁইলো আমারে! চোখ পিটপিটাইয়া আবার তাকাইলো। কেমন লজ্জা লাগতাছে আমার!
সে টাইনা টাইনা কইলো “ঘরের ভিত্রে আসমান ঢুকলো কেমনে? আসমান তো দূরে থাকে, এতো কাছে কেন? হাত বাড়াইলেই ধরা যায় এই আসমান। আসমানডা কি আরো কাছে আইবো? মেঘের মইধ্যে ডুব দিতাম!” তার কথা শুইনা আমি পিছাইলাম আরো দুই পা। এই মানুষটারে এতোদিন দেখি নাই আমি। অচিন মানুষ। মানুষটার চোখে আসমান আছে। নীল আছে। প্রেমও। আবার ঘোর! আমার ইচ্ছা করলো দৌড়াইয়া কাছে যাই মানুষটার। দুই হাতে ছুঁইয়া দেখি। এক্ষুনি খুইলা দেই খাটের সাথে তার দুই পায়ে বান্ধা লোহার শিকল…
POETRYইনহেলার লগে থাকোনের ব্যাপারটা
শ্বাসকষ্টের রোগীরে যেমন নিশ্চিন্ত রাখে,
তোমারে রোজ দেখনোর
ওমন একটা নিশ্চিন্ততার দরকার আছিলো!