
Voices That Shape Us
Poetry, stories, and truths from the soul

Poetry, stories, and truths from the soul
© 2025 Thaahor. All rights reserved.
POETRYপয়সাহীন দরিদ্র রোগীর মতন
অযত্নে ফেলে রাখা ক্ষত
আমাদের ধারণা,
একদিন কর্পূরের মতন সকল ব্যথা উবে যাবে!
POETRYসত্য ও মিথ্যার ছোটাছুটি
চেনা মুখে লাল দাগে কাটাকুটি
রোজ রোজ বদলায় চেনা মুখাবয়ব
খুব বেশি ক্লান্তির এই কলরব
এর চেয়ে ছুটিটা পেয়ে গেলে ঢের
মানুষের ভিড়ে আর আসবো না ফের…
POETRYওরা শরীর থেইকা শরীর ছোঁয় তো রোজই
সাক্ষী থাকে হাড়-চামড়ার হাতটা,
এমন একটা হাত কই পাওয়া যায় ঈশ্বর!
যে শরীর গইলা ছুঁইতে পারে আত্মা?
POETRYরোগাক্রান্ত ক্লান্ত হৃদয়,
অস্বাস্থ্যকর অবিশ্বাস সেবনে
মুমূর্ষুতা জেঁকে ধরেছে!
অনিরাময়যোগ্য যন্ত্রণা ওতে,
ও হৃদয় বয়ে নেয়া শরীর জানালো-
বিরহের মতন গভীর কোনো ক্ষত নেই।
POETRYএমন একাত্মতায় চাইয়াও তারে পাইলাম না!
আলাপে হাসির রোল উঠলো মজলিসে,
বোকার দল জানে না-
শব্দেও যারে ছুঁইতে পারা যায়,
ওমন অন্তরঙ্গতা আর কিসে!
POETRYশৃঙ্গের সেই তীক্ষ্ণতা আজ তোমাদের পায়ের নিচে সয়ে গেছে,
যেমন সয়ে যায় পচা নর্দমার গন্ধ।
তোমরা এখন আর পতনের ভয় করো না,
কারণ পতনের সর্বোচ্চ সীমায় তোমরা পৌঁছে গেছো আগেই।
যেখানে আকাশ ছোঁয়ার কথা ছিল,
সেখানে তোমরা এখন খুঁড়ে চলছো মাটির গভীর আস্তাকুঁড়।
তোমাদের চোখে এখন আর নক্ষত্রের তৃষ্ণা নেই,
আছে কেবল এঁটো ডোবায় ভাগ বসানোর লালসা।
তোমরা ভাবছো তোমরা বেঁচে আছো,
কিন্তু ইতিহাস জানে,
মানুষ যখন নিজের সম্মান চিবিয়ে খায়
তখন তার আয়নায় আর কোনো মানুষের মুখ থাকে না।
হাসুক ওরা, ওই আদিম পালের দল;
তোমাদের এই নতুন রূপ ওদের খুব চেনা।
তোমরা তো আর পথ ভোলা পথিক নও,
তোমরা তো আদি থেকেই এই ভাগাড়ের যোগ্য উত্তরাধিকার।
কারন ওরাতো সেই কবেই বুঝে গিয়েছিলো তোমরা সবাই শুয়োরের বাচ্চা।
POETRY"এলেপোর আর্তনাদ
তুমি কি জানো,
অনেক বছর পুরনো সেই গাছটার, কি হয়েছিল ?
পড়ন্ত বিকেলের আলো ছুঁয়ে যায় ভাঙ্গা দালানের মরা খোলসে,
কেমন মায়া ভরে থাকিয়ে আছে শূন্য নিস্তব্ধ জানালা গুলো,
রাস্তের মোড়ের কুকুর গুলো পালিয়ে গেছে, জীবন বাঁচাতে ।"
কবিতাটি প্রকাশিত হয়ে , ২০২৩ সালে প্রকাশিত "আততায়ী শহর" কাব্যগ্রন্থে।
POETRY
যেদিন তুই বললি তোর মনের মধ্যে আমি আর নাই
সেদিন থেকে রোদের সাথে আপোষ করে নিলাম
আপোষ করে নিলাম বর্ষার দিনে বৃষ্টি ঝড়
ভিজে স্যাঁতস্যাঁত শহর মাঠ আর আমার সেই বিকেল।
আপোষ করে নিলাম চাকরীহীন বেকারত্ব
বাকী পরা মোড়ের দোকানে চায়ের দাম
ক্লান্ত হলেও নির্জীব শরীরের ভার বহন করে চলা
পরিবারের চোখে চোখে অসংখ্য দিক্কারের দিন সন্ধ্যাবেলা।…”
https://youtu.be/yvJ-W_WeoDI
কবিতাটি প্রকাশিত হয়ে , ২০২৩ সালে প্রকাশিত "আততায়ী শহর" কাব্যগ্রন্থে।
প্রকাশক- আজব প্রকাশ।
POETRY"পরাণ পাখি
পরাণডা খালি উড়বার চায়,
পিঞ্জরে বন্দি পাখির লাহান
খালি ছটফট ছটফট করে,
ক্যামনে যে হেরে সামাল দেই ?
গাংগের জলের লাহান ফুইসা উডে !
ক্যামন জানি মোচড় মারে,
রাইতে যহন বেবাকতে ঘুমায়,
আমি আস্তে আস্তে উঠনে আইসা,
আকাশের দিকে চাইয়া
আঁচলের গিট খানি খুইলা দিয়া
পরানডা আসমানে সামনে মেইলা দেই। .
.. … … … … … … ”
https://youtu.be/155z7r0lbUE
কবিতাটি প্রকাশিত হয়ে , ২০২৩ সালে প্রকাশিত "আততায়ী শহর" কাব্যগ্রন্থে।
POETRYআমি উঠে এসেছিলাম কোনো এক গ্রীক দেবীর কোল থেকে;
তার আঙুলে ছিল চন্দ্রালোকের মতো স্নিগ্ধতা,
আর কানে ভেসে এসেছিল অলিম্পাসের গোপন মন্ত্র।
দেবী আমার কপালে রাখলেন আশীর্বাদের আলো,
যেন ডেলফির ভবিষ্যদ্বাণী আমার শিরায় বয়ে চলেছে।
আমি নেমে এলাম, পৃথিবীতে_
আমার চারপাশে আলোর দ্যূতি ছড়িয়ে থাকে সর্বক্ষণ,
মর্ত্যের মানুষ সে আলো কুড়াতে ছুটে আসে।
আমার চোখে জ্বলে ওঠে হেফেস্টাসের আগুন,
আর প্রতিটি দৃষ্টিতে ঝলকে ওঠে অ্যাথেনার বুদ্ধির ঝলক।
তবু আমি জানি_
কোথা হতে এসেছি, কোথায় যাবো।
আমার জন্ম হয়েছে কোনো এক গ্রীক দেবীর অন্তর থেকে;
একটু রহস্য, অ্যাফ্রোদিতির প্রেম,
এরিসের ক্রোধ,
আর এক সমুদ্র কবিতা নিয়ে।
POETRYযদি তুমি ফিরতে চাও,
একটা সোজা-সাপ্টা ইউটার্ন নিতে হবে কেবল
রাস্তার রিকশাওয়ালা মামার জায়গায় দাঁড়াতে পারে একটা পিকআপ ভ্যান
কিংবা গাছের পাতা আরো কিছু ঝরতে পারে
হয়তো রাতের ফ্রেমে এখন ঘুম মাখা ভোর/ত্যক্ত-রৌদ্র দুপুর/আলস্যের বিকেল কিংবা একটা বিষণ্ণ সন্ধ্যা
হয়তো আমি একটা নতুন জামা জড়িয়েছি গায়ে
কানের দুলটা বদলেছে
কপালের টিপটা হয়তো একটু বামে কিংবা ডানে সরেছে
এশট্রেটা ফাঁকা হয়েছে হয়তো, নতুবা যুক্ত হয়েছে তাতে নতুন পোড়া ফিল্টার্স
চায়ের কাপে হয়তো উঠেছে দুশ্চিন্তায় নখ ঘষবার দাগ!
তবে তোমার ফেলে যাওয়া অসমাপ্ত ঝগড়া, আড়চোখে চাহনী, মুচকি হাসি, হাত ধরবার বাহানা, ঠোঁট ছোঁয়ার সাহস, স্ক্রিন জুড়ে একজোড়া চোখের অপেক্ষা, কবিতা-শায়েরির আলাপ, সিনেমার লিস্ট ভাগাভাগি, ভিন্নত্বের বাহাস, পুরনো চাওয়া, খুনসুটি, অভিমান, গভীর-গাঢ়-ঘোরগ্রস্ত প্রেম... সবটা ঠিক আগের মতোন আছে
তাই, যদি ফিরতে চাও
একটা সোজা-সাপ্টা ইউটার্ন নিতে হবে কেবল
একটা সরল, সোজা-সাপ্টা সিদ্ধান্ত!
এরপর, ওভারথিংকিং নামক জঞ্জাল সরিয়ে ফিরে এসো কেবল,
যদি তুমি ফিরতে চাও...
POETRYহাঁটু গাইড়া বইসা পুষ্পখান হাতে দেও নাই,
অর্পণ করছিলা পায়ে
কেমন ঘোরগ্রস্ত চাহনি নিয়া কইছিলা, "মানুষ না তুমি"
প্রেয়সী না ডাইকা, ডাকছিলা দেবী!
সুউচ্চ বেদি দিছিলা তোমার জীবনে
গভীর আরাধনায় বিলায়ে দিছিলা স্বল্প সময়ে নিজের সবটা।
এরপর অবেলায় দেবী বিসর্জন দিয়া
ঘর বাঁধলা ওই এক নশ্বর মানবীর লগেই!
অথচ ওমন নশ্বর মানবীই আছিলো
ওমন নশ্বর মানবীই থাকতে চাইছিলো তোমার নামকরণে হওয়া নব দেবী।
বেদির বদলে চাইছিলো,
চাইর হাতে সাজাইয়া-সামলাইয়া রাখা একটা ছোট্ট ঘর।
একপাক্ষিক আরাধনা গ্রহণ করার বদলে
সেও হাত পাইতা আবদার করছিলো এক মুঠ সাধারণ প্রেম, ভালোবাসা...
তুষ্টি-অতুষ্টির পাট ফেলায়া তুমি চইলা যাইতেই
তোমার বোনা ইলিউশনে ভুগলো সেও
ভেতর মইরা গেলেও
যমদূতের সাধারণ প্রক্রিয়া দেবীরে ছুঁইলো না।
শক্ত মাটি থুবড়াইড়া পইড়া ভাঙ্গার মতোন ভাইঙ্গা গেলো সে,
গুঁড়া হইলো,
কাদামাটি হইলো,
তার অবশিষ্ট ক্ষুদ্র নিজস্বতাও মিশ্যা গেলো বৃষ্টির জলে।
ওইদিকে একটা অপঘাতী মৃত্যুর খবর জানলো না পৃথিবীলোক...