
Voices That Shape Us
Poetry, stories, and truths from the soul

Poetry, stories, and truths from the soul
© 2025 Thaahor. All rights reserved.
POETRYনিদারুণ উপেক্ষায় কেটে যাচ্ছে বিনিদ্র রজনী।
দিনে অবশ্য অতোটা সমস্যা হয় না।
এখন তো দিন ছোট হয়ে আসছে
রাত গ্রাস করে নিচ্ছে রোদ!
কুয়াশায় ভিজছে সবুজ!!!
আমার অপেক্ষমান হৃদে জমে যাচ্ছে কানাইলতার ঝাড়-
অথচ, থেমে নেই;
পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উপেক্ষা তোমার।
ও গো হরীৎ, ও গো সবুজ ননাই মোর-
দোদুল্যমান শৈত্য সরণীতে তোমারও কি নিদান ফাগুন যাপন!!!
কেমন আছে হরীৎ-
কেমন আছে চুল!
কেমন আছে তিল-
আর, কেমন হাসছে আঙুল!
কেমন আছো তুমি, ডালিমকুমারী?
ভালো নিশ্চয়!
কিংবা হয়তো অতোটাও নয়!
পৌষ কি রাখে সবুজের খবর-
মাঘ কি চেনে ডালিমের রঙ?
থাক, বাদ দিই-
আমার কি আর সাজে অতো শখ!
তবু, চেয়ে দেখো ফাল্গুনী, খুন হয়ে গেছে রোদ-
হীরণ্যক্ষ নিয়েছে নাইসিয়ার বুনো সোনালী নার্গিসের প্রতিশোধ।
আর তাই, অগ্রাণী সন্ধ্যা নামে বারান্দায়
দূর আজানের সুরে মেশে মন্দিরের ঢাক।
কারা দেয় উলু-
কারা বাজায় সমুদ্র শাঁখ, করতাল!
আগাম ঝরা পাতা পোড়া শীতঘ্রাণে মেশে ধূপ!
আসে আদিম উপেক্ষা ভরা তুমিহীন গাঢ় কালো রাত;
আর কি সয় বাসন্তী?
নার্গিস চিনি না মেয়ে-
শুধু টের পাই আমার ফুসফুসে রোজ গজিয়ে উঠছে ক্যাকটাস!
টের পাই কাঁটা তার।
আমার বুঝি বাকি নেই খুব বেশি শীত!
এই মাঘ পেরোলেই ছয়!
তারপর, চলে যেতে হয়...
তবু, প্রশ্ন, থেকে যায়!
তবু, প্রশ্ন, রেখে যেতে হয়!
"কেন?"
উত্তর হাওয়া ঘূর্ণি তোলে বারান্দায়।
"কেন নয়?"
৭ ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২
চট্টশরী
POETRYআমাকে ভালোবাসতে গিয়ে,
নিজেকে পরিপক্ব কারিগরের মতোন নিপুণ হাতে ভেঙ্গেছে সে
গড়েছে একই নিখুঁত দক্ষতায়!
মনোযোগী শ্রোতা ছিলো আগেও,
কথাদের সাথে প্রাচীন কলহ মিটিয়ে শিখেছে বলতে,
নিজের নির্লিপ্ততা চাপা দিয়েছে এক মুঠো স্নিগ্ধ চন্দ্রমল্লিকায়...
আমাকে ভালোবাসতে গিয়ে,
নিজের ধূসর পৃথিবীকে করেছে ক্যানভাস
আমি শিল্পী হওয়ার নম্র-উগ্র বিরতিহীন প্রচেষ্টায় তাতে রঙ ছড়িয়েছি দিনের পর দিন!
সে নির্ভেজাল অনুরাগীর মতো প্রতিবেলা মুগ্ধতা নিয়ে দেখেছে, দেখছে
থেকেছে, থাকছে-
আমার অশান্ত-উত্তাল স্বভাবে প্রকৃতির শান্ত শান্তি নিয়ে
সকল বিপদ সংকেতে টিকেছে নিঃশব্দ সতর্কতায়
টিকিয়ে রেখেছে আমাকেও, নিজের ভাঙনেই...
আমাকে ভালোবাসতে গিয়ে,
নিজের গণ্ডির সকল রেখা মুছেছে অতল মনোযোগে
লাল দাগে কেটেছে নিজের সকল কঠোর নিয়মাবলী
জ্বালিয়েছে প্রচলিত, তথাকথিত জাগতিক রীতির ফর্দ
সকল শৃঙ্খল, সীমাবদ্ধতা চিঁড়ে নেমে এসেছে একটা বিস্তৃত খোলা মাঠে
নরম পায়ে হেঁটেছে আমার পাশে পাশে, হাঁটছে
হাঁটতে হাঁটতে আমরা পেরিয়ে এসেছি সিন্ধু বা মেসোপটেমিয়ার সূচনা
আবিষ্কার করেছি পৃথিবীর আদিমতম ধর্ম, প্রাচীনতম ভাষা, শ্বাশততার নিরব সত্য; প্রেম...
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা
POETRYধরো,
একটা ছুটির দিন!
থালায় প্রস্তুত আছিলো পছন্দের সব পদ
এইযেমন- দুই চামচ গরম ভাত, উপরে ছড়াইয়া দেয়া খাঁটি ঘি, পোড়া মরিচের ভর্তা, দুইটা পটল ভাজি, ফোঁড়ন দেয়া পাঁচমিশালি সবজি, চিংড়ির মালাইকারি, ঝাল ঝাল মাংস ভুনা, পাতলা ডাল, রসুনের আচার!
শেষে একটা তুলতুলা কালোজাম....
ওমন আয়েশী মধ্যাহ্নভোজের পর যেই অবশ্যম্ভাবী কোমল ঘুমটা পায়, ওমন কইরা তোমার ভাবনাও আমারে পাইয়া যায়, তুমিও পাইয়া যাও আমারে, পাইয়া যায় তোমার প্রেম!
দেখো, ব্যাপারটা আমার কাছে এতোটাই সরল!
সরল, তোমারে না পাওয়াও!
আমি এইখানে নিজেরে ভাইবা নিছি ব্যস্ত দফতরের নিম্নপদস্থ কর্মচারী
যার বিরাম নাই, ছুটির দিনেও যার ওভারটাইম গোণা লাগে
তৃপ্তির ঢেকুর তুইলা একটা ঘুম দিতে পারা যার জন্য ব্যাপক বিলাসিতা!
তোমারে আমি একটা 'এভ্রিম্যান' ব্যালেন্সড ভদ্রলোকের রুটিনের মতোন মেইনটেইন কইরা যাইতে থাকি,
নিয়ম কইরা একইভাবে ভালোবাইসা যাইতে থাকি,
'সকালে ঘুম থিকা উঠুম, রাতে ঘুমাইতে যামু'- ওমন সাধারণ ব্যাপারস্যাপারের মতোন!
"তুমি আমার অক্সিজেন/তোমারে ছাড়া বাঁচুম না" এইসব শাব্দিক বাড়াবাড়ি আমি পারি না,
ভয়ানক মিথ্যাও বলা হইবো ওতে
ওতো জটিল কইরা ভাবোনের কিছুই নাই আসলে!
কইলামই, তুমি আমার কাছে খুবই সহজ,
দুপুরের কোমল ভাত ঘুমটার মতোন-
বিলাসী, মহামূল্যবান
যা, না হইলেও চইলা যায়
তবুও, মন/মস্তিষ্ক/শরীর সর্বস্বটুকুর কাছেই যা বহু আকাঙ্ক্ষিত,
রোজ রোজই পাইতে চাওয়ার মতোন সরল একটা ব্যাপার...
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা
PERCEPTIONসে পাথর পাবার উপায় বাতলেছিলেন ৫ শব্দে!
কী সহজ ভঙ্গিতে লিখেছিলেন-
"একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো"।
এরপর আমরা ভালোবাসতে চেষ্টা করলাম।
বুকের ভেতর ওমন কিছু পাথরের প্রয়োজন আমাদের জানা।
খাঁ খাঁ নৈঃশব্দ্যে আমাদের প্রচন্ড ভীতি জন্মেছে।
আমরা চাই বাড়তি দুটো শব্দ না হোক,
কিছু প্রতিধ্বনিই ফিরে আসুক।
ওরা, আমরা; ভালোবাসতে চেষ্টা করলাম তাই।
কেউ কেউ দেখা পেলো কবির প্রলোভন জাগানো সে নদী, মাছ, মাছের বুক থেকে ঝরে পড়া পাথর ও নদী-সমুদ্র জলের।
ওরা সে পাথরের পাল বিছিয়ে দেখেও এলো বহুদূর হেমন্তের পাঁশুটেনক্ষত্রের দরোজা পর্যন্ত।
কিছু হতভাগা চেষ্টা করে গেলো!
ওদের দলে রইলাম আমি, আমরা, ও অনেকে....
চেষ্টা চললো।
একবার, দু'বার, বারংবার!
ওদিকে রূপোলী মাছ পাথর ঝরাতে ঝরাতে চলে গেলো।
আমাদের আর ভালোবাসা হলো না,
বুকের ভেতর জড়ো হলো না কিছু মহামূল্যবান পাথর!
আমরা নৈঃশব্দ্য আর প্রগাঢ় শূন্যতা নিয়ে বসে থাকলাম কেবল।
আমাদের বুকের ভেতর পড়ে থাকলো একটি জরাজীর্ণ পরিত্যাক্ত শ্মশান...
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা
POETRYসে আমারে আমার মতোন ভালোবাসতে পারে না,
আমার চোখের দিকে তাকাইতে পারে না,
হাত ধরতে পারে না,
স্থির হইয়া দেখতে পারে না দুইদণ্ড!
আমার মতোন চিৎকার কইরা, নির্দ্বিধায় "ভালোবাসি" বলতে পারোনের সাহস তার নাই…
আমি যখন কই "আপনারে পাশে চাই",
পোষমানা টিয়ার মতোন চুপচাপ আইসা বসে পাশে
"আপনার সাথে একটা সিগারেট হইতে পারে?"
প্রশ্নখানের উত্তর দেয় না সে,
চুপচাপ সিগারেট জ্বালাইয়া ধরে ঠোঁটের ফাঁকে,
আমি মুচকি হাসি।
"হাত ধরি?" কইলেই চুপচাপ বাড়াইয়া দেয় হাতখানা,
কাঁধে মাথা রাইখা মানুষটারে আষ্টাইয়াপৃষ্টাইয়া বইসা থাকি,
একটা ওজনহীন চুমু সযত্নে আইসা নামে আমার কপালের উপর
ভীত না, কাঁপা না, সংকোচের লেশমাত্র থাকে না ওইখানে।
আমি আরো একটু শক্ত কইরা আঁকড়াইয়া নেই তারে,
সে বইসা থাকে, সঙ্গ দেয়, নিজের সমস্তটা সমর্পণ কইরা রাখে আমার হাতে…
তার ধারণা দুনিয়ার সক্কল শ্রেষ্ঠ-সেরাটা আমার প্রাপ্য,
তার ডর, সে আমারে কিছুই দিতে পারবো না,
ওইদিকে তার চোখ জুইড়া নাইমা আসা স্বচ্ছ প্রেম আমার দৃষ্টিগোচর হয় না,
তার না কইতে পারার, প্রকাশ না করতে পারার জংধরা অভ্যাস
তার প্রাচীন, অবাধ্য, অনস্বীকার্য ব্যস্ততা
সবটা থিকাও আমি জাইনা-শুইনা নিতে পারি বহুকিছু…
তার ভয় মাখাইন্যা আড়চোখের চাহনী, তার চোখ খইসা ঝইড়া পড়া মুগ্ধতা; কিছুই আড়াল হয় না আমার দৃষ্টি সইরা
আমি দেখতে পারি তার ক্ষুদ্র থিকা ক্ষুদ্রতর বিস্তারিত!
সে আমারে আমার মতোন ভালোবাসতে পারে না,
কারণ সে আমি না, আলাদা আরেক স্বত্বা!
তার ভালোবাসোনের ধরণ স্বতন্ত্র,
সে আমারে তার নিজের মতোন কইরা ভালোবাসে।
আমার চোখের দিকে তাকাইতে পারে না সে,
তার চোখ জুইড়া নাইমা আসে আকাঙ্ক্ষা, তাতে ভাইসা ওঠে-
"পৃথিবীর সমস্ত সুখ এই মাইয়ার প্রাপ্য, আমি তো কিছুই দিতে পারুম না"মূলক ভীতি।
নিজ থিকা হাত ধরতে পারে না সে,
ধইরা না রাখতে পারার সুক্ষ্ম-তীক্ষ্ম একটা ডর তারে আচ্ছন্ন করে।
আমারে স্থির হইয়া দেখতে পারে না সে দুইদণ্ড!!
আরো অনেকটা ভালোবাইসা ফেলানোর আশংকা তারে জাইকা ধরে।
আমার মতোন চিৎকার কইরা,
নির্দ্বিধায় "ভালোবাসি" বলতে পারার সাহস তার নাই,
কারণ সে নিজের মইধ্যে গুটায়া থাকা মানুষ
সে নৈঃশব্দ্যে, সযত্নে, নিজের মইধ্যে ভালোবাইসা অভ্যস্ত মানুষ
ওই ভালোবাসা স্পর্শকাতর, গভীর, গাঢ়
যার তল ছোঁয়নের স্পর্ধা এখনও এই সাহসী মাইয়াটার হয় নাই!
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা (Pen on paper)
POETRYএকটা কবিতা লিখতে গিয়ে-
আমাকে ফিরতে হয় এক ভোরের কাছে
একমুঠ ফিনফিনে বাতাসের কাছে
মনোযোগ দিতে হয় অগণিত টিয়া-ঘুঘুর ডাকে
একটা বাদাম গাছে ঝুলে থাকা বেদনার রঙ, ধূসর বিষন্নতায়।
যখন সময়ের আঁচল থেকে আড়মোড়া ভেঙ্গে জাগতে চায় একটা সকাল,
হয়তো মা তখনও নামাজের পাটিতে, আঙ্গুল তার তসবির দানায়
বাবার নাকডাকার শব্দে মানিয়ে নিয়েছে দেয়ালের কান
নাশতার থালা ঝিমোচ্ছে, মেন্যু জানবার তাগাদা নেই তার
বাসি খাবারে জমে বসেছে উটকো গন্ধের মেহফিল!
আমি তখন বাড়ি থেকে দূরে, একটা উষ্ণ চুমুর মুখোমুখি
সন্নিকটে ঝুলছে দুর্বল ও উপেক্ষিত, রোগা-ক্লান্ত সতর্কবাণী
একজোড়া চোখের সমুদ্রে দেখে নিচ্ছি, নিজের সর্বনাশ!
সময়ের ব্যারিকেড ডিঙ্গিয়ে আমাকে ফিরতে হয় সেখানে,
যেখানে আহত হৃদয়ে জন্মেছিলো একটি পর্তুলিকার চারা
পুরাতন অনলশিখায় নেমেছিলো স্বস্তির নিষ্প্রভতা
দহনকালের সমাপ্তি টেনে এসেছিলো নূতন ব্যথাকে স্বাগত জানাবার সুযোগ…
একটা কবিতা লিখতে গিয়ে-
আমাকে প্রেমিকার পদ রেখে হতে হয় অ্যাকাউন্ট্যান্ট,
ফর্দ নিয়ে বসতে হয় গভীর হিসেবে!
এরপর, গণিতের মারপ্যাঁচ ছাপিয়ে যে দুটো শব্দ বাঁচে
ওদের তুলে রাখতে হয় হতদরিদ্রের শেষ সম্বলের মতো,
ফিরতে হয় খালি হাতে...
শুরু করতে হয় আবার কোনো নতুন ওয়াক্তে,
একটা সম্ভাব্য দিনের সূচনালগ্নে,
কিংবা তারও আগে
মা যখন হয়তো নামাজের পাটিতে,
আঙ্গুল তার তসবির দানায়
বাবার নাক ডাকার শব্দে মানিয়ে নিয়েছে দেয়ালের কান
নাশতার থালা ঝিমোচ্ছে যখন,
বাসি খাবারে জমেছে উটকো গন্ধের মেহফিল!
যে উটকো গন্ধের মতো বিতাড়িত করতে হয় কবিতা লেখার ভাবনা,
বাসি খাবারের সাথে ডাস্টবিনে ফেলে আসতে হয় ছেঁড়া পাতা
যার গর্ভে বেড়ে ওঠার কথা ছিলো একটা কবিতার ভ্রূণ....
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা (Pen on paper)
POETRYআমার জীবন শিকড় থেকেই আক্রান্ত,
ভেতরটা নড়ে ওঠে ভূমিকম্পের শব্দে।
আমার দেহ পুড়তে থাকে আগ্নেয়গিরির মতন,
নিঃশ্বাসে ওঠে ধোঁয়া, চোখে রক্তিম ছায়া।
শুষ্ক, কঠিন হৃদয় ধীরে ধীরে গলে যায়,
লাভায় তপ্ত পাথরের মতো।
ভালোবাসা কিংবা ঘৃণা নয়,
এ এক নিদারুণ যন্ত্রণার রূপান্তর।
এই জীবনে আর কোনো মানে খুঁজে পাই না,
না আছে কিছু পাওয়ার, না হারানোর।
এখন শুধু মনে হয়
এক শ্বেতশুভ্র বসন গায়ে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকি
কোনো ব্যস্ত রাস্তায়,
অথবা কোনো সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায়।
ঝড়ের মতো ঠান্ডা বাতাস
আমাকে ছুঁয়ে দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাক একটা কোথাও,
যেখান থেকে আর ফিরতে হয় না কারোর।
হয়তো কোনো খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে
শেষবারের মতো নিজের ছায়াটাকেও বিদায় জানাবো;
যে ছায়াটাও আজকাল আমায় অনুসরণ করতে ক্লান্ত।
তারপর?
এক নিঃশব্দ পতনে মিলিয়ে যাবে
এই দগ্ধ শরীর, এই ব্যথার মহাকাব্য,
আর পৃথিবী খুব স্বাভাবিক ভাবেই
আমাকে ভুলে যাবে,
যেন আমি কখনোই কোত্থাও ছিলাম না।
POETRYআমার মৃত্যুতে তোমার বাগানে ফুটে উঠবে একটি ফুল,
একটি গোলাপ।
কিন্তু সে কোনো সাধারণ গোলাপ নয়,
সে ইরানের লুপ্ত মরুভূমির উত্তাপে জন্ম নেওয়া
তপ্ত, বিবর্ণ মরুর গোলাপ।
যাকে তোমরা অ্যাডেনিয়াম বলে ডাকো।
আমার মৃত্যুতে
তোমার বাগানে ফুটবে সেই মরুর গোলাপ।
তুমি সৌন্দর্যে আকুল হবে,
গন্ধে হবে মুগ্ধ।
আর আমি?
শুধু আমি জানবো_
এই গোলাপকে ফোটাতে
কীভাবে পুড়েছিল আমার শরীর।
কীভাবে দগ্ধ হয়েছিলাম আমি ও
আমার সাথীরা।
এই ছোট্ট, নরম, কোমল শরীর
কীভাবে আগুনের হলকায় গলে গিয়েছিল।
তারপর আমি হয়ে উঠলাম এক জ্বলন্ত সৌন্দর্য,
তোমাদের প্রিয়,
মরুর গোলাপ।