
দেবী বিসর্জন
হাঁটু গাইড়া বইসা পুষ্পখান হাতে দেও নাই,
অর্পণ করছিলা পায়ে
কেমন ঘোরগ্রস্ত চাহনি নিয়া কইছিলা, "মানুষ না তুমি"
প্রেয়সী না ডাইকা, ডাকছিলা দেবী!
সুউচ্চ বেদি দিছিলা তোমার জীবনে
গভীর আরাধনায় বিলায়ে দিছিলা স্বল্প সময়ে নিজের সবটা।
এরপর অবেলায় দেবী বিসর্জন দিয়া
ঘর বাঁধলা ওই এক নশ্বর মানবীর লগেই!
অথচ ওমন নশ্বর মানবীই আছিলো
ওমন নশ্বর মানবীই থাকতে চাইছিলো তোমার নামকরণে হওয়া নব দেবী।
বেদির বদলে চাইছিলো,
চাইর হাতে সাজাইয়া-সামলাইয়া রাখা একটা ছোট্ট ঘর।
একপাক্ষিক আরাধনা গ্রহণ করার বদলে
সেও হাত পাইতা আবদার করছিলো এক মুঠ সাধারণ প্রেম, ভালোবাসা...
তুষ্টি-অতুষ্টির পাট ফেলায়া তুমি চইলা যাইতেই
তোমার বোনা ইলিউশনে ভুগলো সেও
ভেতর মইরা গেলেও
যমদূতের সাধারণ প্রক্রিয়া দেবীরে ছুঁইলো না।
শক্ত মাটি থুবড়াইড়া পইড়া ভাঙ্গার মতোন ভাইঙ্গা গেলো সে,
গুঁড়া হইলো,
কাদামাটি হইলো,
তার অবশিষ্ট ক্ষুদ্র নিজস্বতাও মিশ্যা গেলো বৃষ্টির জলে।
ওইদিকে একটা অপঘাতী মৃত্যুর খবর জানলো না পৃথিবীলোক...

