
কেন নয়? (পার্সেফোনি সিরিজ)
নিদারুণ উপেক্ষায় কেটে যাচ্ছে বিনিদ্র রজনী।
দিনে অবশ্য অতোটা সমস্যা হয় না।
এখন তো দিন ছোট হয়ে আসছে
রাত গ্রাস করে নিচ্ছে রোদ!
কুয়াশায় ভিজছে সবুজ!!!
আমার অপেক্ষমান হৃদে জমে যাচ্ছে কানাইলতার ঝাড়-
অথচ, থেমে নেই;
পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উপেক্ষা তোমার।
ও গো হরীৎ, ও গো সবুজ ননাই মোর-
দোদুল্যমান শৈত্য সরণীতে তোমারও কি নিদান ফাগুন যাপন!!!
কেমন আছে হরীৎ-
কেমন আছে চুল!
কেমন আছে তিল-
আর, কেমন হাসছে আঙুল!
কেমন আছো তুমি, ডালিমকুমারী?
ভালো নিশ্চয়!
কিংবা হয়তো অতোটাও নয়!
পৌষ কি রাখে সবুজের খবর-
মাঘ কি চেনে ডালিমের রঙ?
থাক, বাদ দিই-
আমার কি আর সাজে অতো শখ!
তবু, চেয়ে দেখো ফাল্গুনী, খুন হয়ে গেছে রোদ-
হীরণ্যক্ষ নিয়েছে নাইসিয়ার বুনো সোনালী নার্গিসের প্রতিশোধ।
আর তাই, অগ্রাণী সন্ধ্যা নামে বারান্দায়
দূর আজানের সুরে মেশে মন্দিরের ঢাক।
কারা দেয় উলু-
কারা বাজায় সমুদ্র শাঁখ, করতাল!
আগাম ঝরা পাতা পোড়া শীতঘ্রাণে মেশে ধূপ!
আসে আদিম উপেক্ষা ভরা তুমিহীন গাঢ় কালো রাত;
আর কি সয় বাসন্তী?
নার্গিস চিনি না মেয়ে-
শুধু টের পাই আমার ফুসফুসে রোজ গজিয়ে উঠছে ক্যাকটাস!
টের পাই কাঁটা তার।
আমার বুঝি বাকি নেই খুব বেশি শীত!
এই মাঘ পেরোলেই ছয়!
তারপর, চলে যেতে হয়...
তবু, প্রশ্ন, থেকে যায়!
তবু, প্রশ্ন, রেখে যেতে হয়!
"কেন?"
উত্তর হাওয়া ঘূর্ণি তোলে বারান্দায়।
"কেন নয়?"
৭ ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২
চট্টশরী

