
একটা কবিতা লিখতে গিয়ে
একটা কবিতা লিখতে গিয়ে-
আমাকে ফিরতে হয় এক ভোরের কাছে
একমুঠ ফিনফিনে বাতাসের কাছে
মনোযোগ দিতে হয় অগণিত টিয়া-ঘুঘুর ডাকে
একটা বাদাম গাছে ঝুলে থাকা বেদনার রঙ, ধূসর বিষন্নতায়।
যখন সময়ের আঁচল থেকে আড়মোড়া ভেঙ্গে জাগতে চায় একটা সকাল,
হয়তো মা তখনও নামাজের পাটিতে, আঙ্গুল তার তসবির দানায়
বাবার নাকডাকার শব্দে মানিয়ে নিয়েছে দেয়ালের কান
নাশতার থালা ঝিমোচ্ছে, মেন্যু জানবার তাগাদা নেই তার
বাসি খাবারে জমে বসেছে উটকো গন্ধের মেহফিল!
আমি তখন বাড়ি থেকে দূরে, একটা উষ্ণ চুমুর মুখোমুখি
সন্নিকটে ঝুলছে দুর্বল ও উপেক্ষিত, রোগা-ক্লান্ত সতর্কবাণী
একজোড়া চোখের সমুদ্রে দেখে নিচ্ছি, নিজের সর্বনাশ!
সময়ের ব্যারিকেড ডিঙ্গিয়ে আমাকে ফিরতে হয় সেখানে,
যেখানে আহত হৃদয়ে জন্মেছিলো একটি পর্তুলিকার চারা
পুরাতন অনলশিখায় নেমেছিলো স্বস্তির নিষ্প্রভতা
দহনকালের সমাপ্তি টেনে এসেছিলো নূতন ব্যথাকে স্বাগত জানাবার সুযোগ…
একটা কবিতা লিখতে গিয়ে-
আমাকে প্রেমিকার পদ রেখে হতে হয় অ্যাকাউন্ট্যান্ট,
ফর্দ নিয়ে বসতে হয় গভীর হিসেবে!
এরপর, গণিতের মারপ্যাঁচ ছাপিয়ে যে দুটো শব্দ বাঁচে
ওদের তুলে রাখতে হয় হতদরিদ্রের শেষ সম্বলের মতো,
ফিরতে হয় খালি হাতে...
শুরু করতে হয় আবার কোনো নতুন ওয়াক্তে,
একটা সম্ভাব্য দিনের সূচনালগ্নে,
কিংবা তারও আগে
মা যখন হয়তো নামাজের পাটিতে,
আঙ্গুল তার তসবির দানায়
বাবার নাক ডাকার শব্দে মানিয়ে নিয়েছে দেয়ালের কান
নাশতার থালা ঝিমোচ্ছে যখন,
বাসি খাবারে জমেছে উটকো গন্ধের মেহফিল!
যে উটকো গন্ধের মতো বিতাড়িত করতে হয় কবিতা লেখার ভাবনা,
বাসি খাবারের সাথে ডাস্টবিনে ফেলে আসতে হয় ছেঁড়া পাতা
যার গর্ভে বেড়ে ওঠার কথা ছিলো একটা কবিতার ভ্রূণ....
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা (Pen on paper)

