
যন্ত্রণার রূপান্তর
আমার জীবন শিকড় থেকেই আক্রান্ত,
ভেতরটা নড়ে ওঠে ভূমিকম্পের শব্দে।
আমার দেহ পুড়তে থাকে আগ্নেয়গিরির মতন,
নিঃশ্বাসে ওঠে ধোঁয়া, চোখে রক্তিম ছায়া।
শুষ্ক, কঠিন হৃদয় ধীরে ধীরে গলে যায়,
লাভায় তপ্ত পাথরের মতো।
ভালোবাসা কিংবা ঘৃণা নয়,
এ এক নিদারুণ যন্ত্রণার রূপান্তর।
এই জীবনে আর কোনো মানে খুঁজে পাই না,
না আছে কিছু পাওয়ার, না হারানোর।
এখন শুধু মনে হয়
এক শ্বেতশুভ্র বসন গায়ে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকি
কোনো ব্যস্ত রাস্তায়,
অথবা কোনো সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায়।
ঝড়ের মতো ঠান্ডা বাতাস
আমাকে ছুঁয়ে দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাক একটা কোথাও,
যেখান থেকে আর ফিরতে হয় না কারোর।
হয়তো কোনো খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে
শেষবারের মতো নিজের ছায়াটাকেও বিদায় জানাবো;
যে ছায়াটাও আজকাল আমায় অনুসরণ করতে ক্লান্ত।
তারপর?
এক নিঃশব্দ পতনে মিলিয়ে যাবে
এই দগ্ধ শরীর, এই ব্যথার মহাকাব্য,
আর পৃথিবী খুব স্বাভাবিক ভাবেই
আমাকে ভুলে যাবে,
যেন আমি কখনোই কোত্থাও ছিলাম না।

